This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

বাইবেলে দেখা যায়, যীশুর বাপ্তিস্মের সময় ঈশ্বর স্বর্গ থেকে তাঁর সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন।
মথি ৩:১৭ পদে লেখা আছে:
“ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইঁহাতেই আমি প্রীত।”
এই ঘোষণার মাধ্যমে যীশুর সঙ্গে ঈশ্বরের বিশেষ সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুসারে, যীশু কেবল একজন শিক্ষক বা ভাববাদী নন; তিনি ঈশ্বরের অনন্য পুত্র।
যীশু তাঁর শিক্ষা ও কথাবার্তায় ঈশ্বরকে পিতা বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি মানুষের কাছে ঈশ্বরের চরিত্র, প্রেম, পবিত্রতা ও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
যোহন ১০:৩০ পদে যীশু বলেছেন:
“আমি ও পিতা, আমরা এক।”
খ্রিস্টানরা সাধারণত এই পদকে যীশু ও পিতার মধ্যে গভীর ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে বোঝেন। ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে পিতা ও পুত্র স্বতন্ত্র ব্যক্তি, কিন্তু তাঁরা একই ঈশ্বরত্বে এক।
বাইবেলে যীশুর অনেক অলৌকিক কাজের বিবরণ রয়েছে। তিনি অসুস্থদের সুস্থ করেছেন, অন্ধদের দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন, ঝড় থামিয়েছেন এবং মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেছেন।
মার্ক ৪:৩৯ পদে দেখা যায়, যীশু বাতাস ও সমুদ্রকে ধমক দিলে ঝড় থেমে যায়।
এই ঘটনাগুলো খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে যীশুর ঐশ্বরিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে শিষ্যরা তাঁর পরিচয় আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শুরু করেন।
যোহন ১:১ পদে লেখা আছে:
“আদিতে বাক্য ছিলেন, এবং বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন, এবং বাক্য ঈশ্বর ছিলেন।”
এরপর যোহন ১:১৪ পদে বলা হয়েছে, সেই বাক্য মাংসে পরিণত হয়ে মানুষের মধ্যে বাস করলেন।
খ্রিস্টীয় ব্যাখ্যা অনুসারে, এখানে “বাক্য” বলতে যীশু খ্রিস্টকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, যীশুর মাধ্যমে ঈশ্বর নিজেকে মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন। এই শিক্ষা যীশুর ঐশ্বরিক পরিচয় বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাইবেল অনুসারে, যীশু মানুষের পাপ থেকে মুক্তি ও ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলনের পথ খুলে দিতে পৃথিবীতে এসেছিলেন।
যোহন ৩:১৬ পদে বলা হয়েছে:
“কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন।”
এই পদ খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন, যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়া ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঈশ্বর মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং পরিত্রাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁর পুনরুত্থানের কথা নতুন নিয়মে বর্ণিত হয়েছে। খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে পুনরুত্থান শুধু মৃত্যুর ওপর বিজয় নয়, বরং যীশুর পরিচয় ও তাঁর পরিত্রাণের কাজেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
রোমীয় ১:৪ পদে যীশু খ্রিস্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই কারণে খ্রিস্টানদের কাছে যীশুর পুনরুত্থান তাঁদের বিশ্বাস ও আশার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা দরকার। খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে যীশুকে ঈশ্বরের পুত্র বলার অর্থ এই নয় যে ঈশ্বর মানুষের মতো শারীরিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
প্রচলিত ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টীয় মতবাদ অনুসারে:
পিতা ঈশ্বর: ত্রিত্বের প্রথম ব্যক্তি।
পুত্র যীশু খ্রিস্ট: ঈশ্বরের অনন্ত বাক্য, যিনি মানবদেহ ধারণ করেছিলেন।
পবিত্র আত্মা: ত্রিত্বের তৃতীয় ব্যক্তি।
এই মতবাদ অনুসারে, পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা তিনজন পৃথক ব্যক্তি, কিন্তু তাঁরা এক ঈশ্বর। যীশু সৃষ্ট কোনো সাধারণ সত্তা নন; তিনি অনন্তকাল থেকেই পিতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
বিভিন্ন খ্রিস্টীয় সম্প্রদায় এই বিষয়ের কিছু দিক ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে। তাই বাইবেলের পদগুলো পড়ার পাশাপাশি সেগুলোর ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যাও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
যীশুকে ঈশ্বরের পুত্র বলা হয় কারণ বাইবেলে তাঁর এই পরিচয় ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে তাঁর বিশেষ ঐক্যের কথা বলেছেন, তাঁর কাজ ও শিক্ষা ঈশ্বরকে প্রকাশ করেছে এবং খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুসারে তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে মানুষের পরিত্রাণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
যীশুর পরিচয় বোঝা শুধু একটি ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর জানা নয়; এটি তাঁর শিক্ষা, ভালোবাসা, ক্ষমা এবং মানুষের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের তাৎপর্য উপলব্ধি করারও একটি উপায়।
মূল বাইবেল পাঠ: যোহন ১:১–১৪, মথি ৩:১৬–১৭, যোহন ৩:১৬–১৭ এবং রোমীয় ১:৩–৪।