This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

মানুষ হিসেবে এই বোধটা খোদা আমাদের ভেতরেই দিয়ে দিয়েছেন। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল এটা জানার জন্য অনেক সময় বাইরে কিছু খুঁজতে হয় না, নিজের বিবেকের দিকে তাকালেই হয়। তবুও আমরা অনেক সময় সেই বিবেকের কথা শুনি না।
আমরা সাধারণত সেটাই বেছে নিই যেটা আমাদের ভালো লাগে, যেটা আমাদের আনন্দ দেয়। সেই আনন্দটা যদি সাময়িকও হয়, তবুও আমরা সেটার দিকেই ঝুঁকি। এমনকি জানার পরও যে বিষয়টা মিথ্যা, তবুও আমরা সেটাকে আঁকড়ে ধরি, কারণ সত্যটা অনেক সময় কঠিন, অস্বস্তিকর এবং আত্মসম্মানে আঘাত করে। মিথ্যা সহজ, আর সত্য ভারী এই বাস্তবতার সাথেই আমরা প্রতিদিন লড়াই করি।
সত্যকে গ্রহণ করা সহজ কাজ নয়। সত্য অনেক সময় আমাদের ভুলগুলো চোখের সামনে এনে দাঁড় করায়। আমাদের সিদ্ধান্ত, আমাদের আচরণ, আমাদের বেছে নেওয়া পথ সবকিছুকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। তাই আমরা অনেক সময় সত্য জানার পরও বুঝতে পারি না, এখন আমাদের কী করা উচিত। সত্যটা জেনে ফেলেছি, কিন্তু সেটা মানতে গেলে সাহস লাগে, নিজের ভেতরের শক্তি লাগে।
এই জায়গাটাতেই মানুষ সবচেয়ে বেশি দ্বিধায় পড়ে যায়। মিথ্যার সাথে থাকলে হয়তো মনটা আপাতত শান্ত থাকে, কিন্তু ভেতরের অস্বস্তিটা যায় না। আর সত্যকে মেনে নিলে শুরুতে কষ্ট হয়, কিন্তু একটা গভীর শান্তি আসে, যেটা মিথ্যা কখনো দিতে পারে না।
সব সময় নিজের শক্তিতে সত্যকে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তখন খোদার সাহায্য চাওয়াটাই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। যখন আমরা আন্তরিকভাবে চাই, খোদা আমাকে সত্যটা মেনে নেওয়ার শক্তি দাও তখনই ভেতর থেকে একটা সাহস আসে। সেই সাহস আমাদের সত্যের পথে দাঁড়াতে শেখায়, ভুল স্বীকার করতে শেখায়, আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
সত্য সব সময় সহজ নয়, কিন্তু সত্যই শেষ পর্যন্ত মানুষকে মুক্ত করে। আর মিথ্যা যতই আরামদায়ক হোক না কেন, সেটা ভেতরে ভেতরে মানুষকে দুর্বল করে দেয়। তাই সত্য আর মিথ্যার মাঝে বেছে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। আর যখনই সেই বেছে নেওয়াটা কঠিন মনে হয়, তখন খোদার দিকে ফিরে তাকালেই আমরা আবার পথ খুঁজে পাই।